বিশ্বব্যাপী কফির রেকর্ড সর্বোচ্চ দাম অব্যাহত

ব্রাজিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন করে। গত বছর তীব্র খরায় দেশটিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রাজিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন করে। গত বছর তীব্র খরায় দেশটিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সরবরাহ কমার আশঙ্কায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) কফির দাম বেশ কয়েকদিন ধরেই রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান ধরে রেখেছে। মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা গত বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইসিইতে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে বৃহস্পতিবার অ্যারাবিকা কফি পাউন্ডপ্রতি প্রায় ৪ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে (বিশ্বব্যাপী চুক্তি মূল্য নির্ধারণে একটি বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহার হয়) কফির দাম এরই মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এ বাজারে অ্যারাবিকা কফির দাম পাউন্ডপ্রতি রেকর্ড ৩ ডলার ৭৭ সেন্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে তা ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে পাউন্ডপ্রতি ৩ ডলার ৭৩ সেন্টে পৌঁছে এদিনের বেচাকেনা শেষ হয়।

বিপণনকারীরা বলছেন, নেসলে ও জেডই পিটসের মতো কোম্পানিগুলোর ক্রয় এখনো বাকি। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কফি ব্যবসায়ী কোম্পানি ভলক্যাফে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্রিশুল মন্দানা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক দ্রুত কমে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্রাজিলের সংকট ও বর্তমান চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দেখে ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই আইসিইতে মজুদ কমে যেতে পারে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বাজার পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হতে পারে।’

অ্যারাবিকা কফির মজুদ কয়েক দিনে দ্রুত কমেছে। প্রায় এক লাখ ব্যাগ কমে প্রায় নয় লাখ ব্যাগে নেমে এসেছে। বিপণনকারীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরো বেড়েছে।

এদিকে আইকোনা কফি একটি প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক আবহাওয়া ও তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উৎপাদন আরো কমতে পারে।

রোবাস্তা কফিতেও সরবরাহ সংকট রয়েছে। পণ্যটির দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি রেকর্ড ৫ হাজার ৭৩৪ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামের কৃষকরা দাম আরো বৃদ্ধির আশায় বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

আরও